• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জে আওয়ামীলীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের গেটে ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ নিহত যমুনায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে চন্ডিদাসগাতীতে পরিত্যক্ত বেইলী ব্রীজ থেকে পড়ে গিয়ে বাইসাইকেল আরোহী নিহত সিরাজগঞ্জে ব্যাবসায়ীকে হত্যার দায়ে ৬ আসামী গ্রেফতার। তাড়াশে চালের কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন চেয়ারম্যানের শ্বশুড়। আগামী সপ্তাহেই চালু হচ্ছে শেখ হাসিনা ট্রমা সেন্টার। উল্লাপাড়ায় ২৮৭ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুই। ১৭০ গ্রাম হেরোইন ও ৩২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক কারবারি আটক । সলঙ্গায় ১৯৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

যমুনায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে

বিশেষ রিপোর্ট ॥ / ২৬ Time View
Update : রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশ রেলওয়ের মেগা প্রকল্প এবং অনন্য বৈশিষ্টের স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সেতুর উভয় প্রান্তের রেলওয়ে ষ্টেশন আধুনিকায়নের কাজ সহ রেল ট্র্যাক লিংকিং, (সংযোগ) ব্যালানসিং (ভারসাম্য রক্ষা)সহ নানা খুটিনাটি কাজও দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে।
ইতোমধ্যেই যমুনা নদীর গভীরতা ও স্রােতের সাথে যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ওপর সুপার স্ট্রাকচার স্প্যান স্থাপনের পর সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রান্তের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। নদীর ওপর চার দশমিক আট কিমি সেতু এখন পুরোটাই দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে চলাচলকারী ট্রেন ও বাস-ট্রাকসহ ছোট বড় নানা যানবাহনের যাত্রীরা তা প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছেন।
রেল সেতু দিয়ে কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে তা নিয়েই মুলতঃ সাধাণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হযেছে। আগ্রহও বাড়ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের মেগা প্রকল্প রেল সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান- চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই রেলসেতু । ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে আনা বিশেষভাবে তৈরি মরিচারোধী বড় বড় স্টিলের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা স্প্যান সেতুর উপর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু রেল সেতুতে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে জাপানি আধুনিক ডাইরেক্ট রেল ফ্যাসেনার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে স্প্যানের ওপর সরাসরি বসানো হচ্ছে রেললাইন। এতে সেতুর ওপর রেল লাইনের স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম হবে।
এখন উভয় প্রান্তের রেল ষ্টেশন আধুনিকায়ন সহ রেলসেতুতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণও শেষের দিকে। সেতুর উভয় প্রান্তের রেলওয়ে ষ্টেশন আধুনিকায়নের কাজ সহ রেল ট্র্যাক লিংকিং, (সংযোগ) ব্যালানসিং (ভারসাম্য রক্ষা) সহ নানা খুটিনাটি কাজও দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে । সেতুর উভয় প্রান্ত অর্থাৎ টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর প্রান্ত এবং সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ প্রান্তে রেল ষ্টেশনের আধুনিকায়ন কাজ করছেন প্রকল্পের নানা পর্যায়ের প্রকৌশলী এবং শ্রমিকেরা। বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন এবং বাস-ট্রাকসহ নানা যানবাহনে চলাচলরত যাত্রীরাও উৎফুল্ল। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মর্তারা জানান- সেতুর পুর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে প্রায় তিন কিমি এলাকা জুড়ে রেল ট্য্রাক সহ নানা ধরণের কাজ ইতোমধ্যেই শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশী কাজ শেষ হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু রেলসেতুটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ ও রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রান্সএশিয়ান রেলপথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে।

যমুনার নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে দেশের দীর্ঘতম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের সেতু নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ৭২ ভাগ অর্থ ঋণ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। জাপানের আইএইচআই, এসএমসিসি, ওবায়শি করপোরেশন, জেএফই ও টিওএ করপোরেশন এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তিনটি প্যাকেজে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সূর্য জনকন্ঠকে জানান- এটি ডাবল লাইনের হওয়ায় একই সাথে একাধিক ট্রেন চলতে পারবে। এতে এ অঞ্চলে ব্যবসার প্রসার ঘটবে। রেল সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে আন্তঃদেশীয় যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি চলাচল করতে পারবে। এতে আমদানি-রফতানি খরচ কমে যাওয়া সহ বঙ্গবন্ধু সেতু ও মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে, কমবে পরিবহন খরচ, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক জীবন যাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা হেনরী বাংলাদেশ রেলওয়ের মেগাপ্রকল্প যমুনা নদীর উপর রেল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেছেন- তাঁর নাড়িপোতা সয়দাবাদ ইউনিয়নে রেল সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন- রেল সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু চালু হওয়ার পর ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। অপর প্রান্তের ট্রেনকে পারাপারের জন্য রেল থামিয়ে বসে থাকতে হবে না। রেল সেতুটি চালু হলে বঙ্গবন্ধু সেতুর ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। এটি হবে উত্তরাঞ্চলের সাথে দক্ষিলাঞ্চলের মেলবন্ধন। রেল সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে আন্তঃদেশীয় যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি চলাচল করতে পারবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সড়ক পথের পাশাপাশি রেলপথেও পণ্য পরিবহণ সহজতর হবে এবং খরচও সাশ্রয় হবে। উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক জীবন যাত্রায় পরিবর্তন আনবে।

যমুনা নদীর উপর নির্মাণাধীন রেল সেতুতে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রান্তে সহস্রাধিক দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category